বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর ‘বিনে পয়সার’ এসি, বিশ্বে তোলপাড়

বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর ‘বিনে পয়সার’ এসি, বিশ্বে তোলপাড়
 

বিদ্যুৎবিহীন শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি বানিয়ে বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছেন বাংলাদেশি উদ্ভাবক আশীষ পাল। ফেলে দেয়া বোতলকে কাজে লাগিয়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখার দুর্দান্ত এক কৌশল উদ্ভাবন করেছেন তিনি। যন্ত্রটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ইকো-কুলার’ বা পরিবেশবান্ধব কুলার। বিজ্ঞান অন্তঃপ্রাণ মানুষ আশীষ পাল পেশায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রের ক্রিয়েটিভ সুপারভাইজার। তার মাথাতেই প্রথম বাসা বাঁধে ‘ইকো-কুলার’ তৈরির আইডিয়া। এরপরেই তিনি কাজ শুরু করেন। আশীষ পাল জানান, কয়েক বছর আগে তিনি ভারতের রাজস্থানের ‘হাওয়া মহলে’ ঘুরতে গিয়েছিলেন। সে মহলের একটি ব্যাপার তাকে খুব অবাক করে। সেখানে মহলের ঘুলঘুলি দিয়ে বাতাস ঢুকে ভেতরটা ঠাণ্ডা করে। এ বিষয়ে সে সময়ে তার বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা তিনি খুঁজে পাননি। কিন্তু এরপর থেকেই বিষয়টি তার মাথায় ঘুরতে থাকে।
ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূর এগোনো হয় না আশীষ পালের। তবে একদিনের একটি ঘটনা এনে দেয় আলোর সন্ধান। বাসায় তার মেয়েকে পদার্থ বিজ্ঞান পড়াচ্ছিলেন এক শিক্ষক। চাপের ফলে গ্যাস কিভাবে শীতল হয়, এই বিষয় নিয়েই পড়াচ্ছিলেন তিনি। আর এটিই আশীষ পালকে দারুণ উৎসাহী করে। এরপর আশীষ তার ভাবনার কথা বলেন প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের সঙ্গে। অফিসেই বানানো হয় টিনের তৈরি ঘরের কাঠামো। তারপর রাজধানীর নিকেতন হাউজিং সোসাইটির একটি বাসার ছাদেও এই উদ্ভাবনের নানা দিক নিয়ে কাজ করেন। সেখানে পাওয়া সাফল্যের সূত্র ধরেই ‘ইকো-কুলার’ প্রকল্পের পথে এগোলেন তিনি এবং তার সহকর্মীরা।
বর্তমানে গ্রামের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন এই কুলার ব্যবহার করে ঘরের তাপ কমাতে পারেন স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত। এই প্রযুক্তি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চ মাসে। আশীষ পালসহ ১৫ জনের একটি দল নীলফামারী জেলার একটি গ্রামে যান। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে গ্রামীণ-ইন্টেল। তারপর গ্রে আর ইন্টেল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মাপাড়ের একটি গ্রামকে বেছে নেয় এই যন্ত্রটির কার্যকারিতা দেখার জন্য। এখন সেই গ্রামের বিভিন্ন ঘরে চলছে যন্ত্রটি বসানোর কাজ। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বড়গাছা গ্রামের পীযূষ কুমার রায় বলেন, ‘আমি ইকো-কুলার ব্যবহার করছি। বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে ঘর বেশ ঠাণ্ডা রাখে এটি।’ এ পর্যন্ত ২৫ হাজার বাড়িতে এই ইকো-কুলার লাগানো হয়েছে। বর্তমানে নীলফামারী ডোমার উপজেলার ঘরে ঘরে চলছে বিনে পয়সার এই এসি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কল্যাণে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে আশীষ পালের এই উদ্ভাবন। ইকো-কুলার বানানোর পদ্ধতি নিয়ে তৈরি করা ভিডিও ইউটিউব, ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। ইকো-কুলারের ওয়েবসাইট
Bagikan :
+
Next
This is the current newest page
Previous
Next Post »
 
video bangla natok
Back To Top